Posts

চক্ষু পীড়ায় কোনায়ামের লক্ষণ

  চক্ষু পীড়ায় কোনায়ামের লক্ষণ বর্ণনা কর।  চক্ষু পীড়া লক্ষণ— স্ক্রফিউলস ধাতুগ্রস্ত ব্যক্তিদের চক্ষু রোগে প্রদাহ খুব বেশী নয়, অথচ আলোকের দিকে তাকাইতে পারে না এই লক্ষণে কোনায়াম উপযোগী। চক্ষুর যন্ত্রণা রাত্রিকালে বৃদ্ধি হয়, আলোক একেবারেই অসহ্য, অন্ধকারে বা চক্ষু বাঁধা থাকিলে আরাম বোধ, রোগী সর্বদাই চক্ষুর পাতা ফেলিয়া রাখে, চক্ষুর পাতার আংশিক বা সম্পূর্ণ পক্ষাঘাত। যেখায় চক্ষুর কোন বিশেষ প্রদাহ নাই কিন্তু আলোক অসহ্য সেজন্য চক্ষু বন্ধ রাখে, চক্ষু খুলিতেই গরম অশ্রু স্রাব বেগে নির্গত হইতে থাকে, তথায় কোনায়ামই একমাত্র ঔষধ । চক্ষুর ছানি রোগে এবং আঘাত যদি চক্ষু পীড়ার কারণ হয় তাহা হইলেও ইহা উৎকৃষ্ট ফলদায়ক।

স্ত্রী পীড়ায় কোনায়ামের লক্ষণ

  স্ত্রী পীড়ায় কোনায়ামের লক্ষণ লিখ ।  স্ত্রী পীড়ায় লক্ষণ:— ঋতুস্রাব সামান্য অল্পদিন স্থায়ী বা একেবারেই না থাকা প্রভৃতি অবস্থাগুলি ইহাতে বর্তমান আছে। তাহা ছাড়া ঋতুকালে সমগ্র দেহে ছোট ছোট লাল বর্ণের স্ফোটক দেখা দেয় এবং স্রাব অবসানের সঙ্গে সঙ্গেই ঐগুলি মিলাইয়া যায়। ঋতুর ঠিক ৮/১০ দিন পর ইহার শ্বেত প্রদর স্রাব দেখা দেয়। এই স্রাব কখনও রক্ত মিশ্রিত, কখনও দুগ্ধবৎ সাদা গাঢ়, মাঝে মাঝে বন্ধ হয়, যেখানে লাগে সেখানে হাজিয়া যায়। স্তনদ্বয়ের গ্রন্থি স্ফীতি, ডিম্বাধার প্রদাহ। প্রথমে গ্যাণ্ড সমূহে কোন প্রকার যন্ত্রণা থাকে না। তবে শুধু ঋতুস্রাবকালে স্তনে বেদনার অনুভূতি হয়। ঋতুস্রাবের সময় ব্যতীত অন্য সময় স্তনের লক্ষণ স্বাধীন ভাবে দেখা দেয় তখন তাহা ক্রমান্বয়ে শক্ত হইতে থাকে এবং কোনরূপ বেদনা তখন থাকে না ।

পুংজননেন্দ্রিয়ের উপর কোনায়ামের লক্ষণ বা ক্রিয়া বর্ণনা কর।

  পুংজননেন্দ্রিয়ের লক্ষণ বা ক্রিয়া- জননেন্দ্রিয়ের উপর কোনায়াম সুন্দর কাজ করিয়া থাকে। লিঙ্গের দুর্বলতা, কামরিপু চরিতার্থ করার খুব ইচ্ছা কিন্তু স্ত্রী সহবাসে সম্পূর্ণ অক্ষম। স্ত্রীলোক দর্শনে বা স্পর্শে এমনকি স্মরণ করিলেও অসাড়ে বীর্যপাত হইয়া যায়। জননেন্দ্ৰিয় উত্তেজিত হয় না, শিথিল। জননেন্দ্রিয়ের এই প্রকার পীড়া হইতে নানা প্রকার মানসিক পীড়া উপস্থিত হয়। পুরুষ বা স্ত্রী অতিরিক্ত ইন্দ্রিয় পরিচালনা হেতু বা চির কৌমার্যব্রত পালন করিয়া মানসিক পীড়াগ্রস্ত হইয়া পড়িলে বা অতিরিক্ত স্ত্রী সহবাস জনিত দৌর্বল্য পক্ষাঘাতে পরিণত হইলে কোনায়াম ফলপ্রদ ।

কোনায়ামকে আইবুড়ো ও আইবুড়ীদের ঔষধ বলা হয় কেন?

 আইবুড়ো ও আইবুড়ীদের ঔষধ বলা হয়- চিরকুমার অধিক বয়স্ক পুরুষ ও স্ত্রীলোকদের ক্ষেত্রে কোনায়াম একটি মূল্যবান ঔষধ । বৃদ্ধ বয়সের রোগে অর্থাৎ জীবনের শেষ অবস্থায় যখন দুৰ্ব্বলতা, অবসাদ, স্থানীয় প্রদাহ প্রভৃতি শরীরে আশ্রয় নেয় তখনই কোনায়াম অধিক উপযোগী। যুবা ও বয়স্কদের অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের কুফলে ইন্দ্রিয় শৈথিল্য, ধ্বজভঙ্গ, স্মৃতি শক্তির দুর্ব্বলতা প্রভৃতি লক্ষণ ইহাতে দৃষ্ট হয়। কৌমার্যব্রত পালন হেতু কাম প্রবৃত্তি সংযত রাখাতে বা কাম প্রবৃত্তির অত্যধিক পরিচালনা হেতু বৃদ্ধ বয়সে যাহাদের দৈহিক ও মানসিক দুর্ব্বলতা আসিয়া ক্রমে পক্ষাঘাত পরিণত হইয়াছে তাদের ক্ষেত্রে ইহা সুন্দর কাজ করে। ফলতঃ জীবনের সন্ধিক্ষণে দেহ মন দুৰ্ব্বল হইয়া পড়িলে, দৃষ্টি শক্তির ক্ষীণতা, দেহের কম্পন, হাত পায়ে শক্তি না থাকা, পায়ের আড়ষ্ট ভাব দেখা দিলে এবং যে সকল পুরুষ বা স্ত্রীলোক দীর্ঘকাল ইন্দ্রিয় সংযমের ফলে আলস্য, কার্যে অনিচ্ছা, স্বভাবে উগ্রতা, ক্রোধ, লোক সঙ্গ পছন্দ না করা, বৃদ্ধদের প্রষ্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি হেতু থামিয়া থামিয়া মূত্র নির্গত হওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয় তখন কোনারাম অতীব উপকারী ঔষধ। সেজন্যই ইহাক...

কোনায়মের চরিত্রগত বা নির্দেশক লক্ষণ

  ১) মনটি বিষাদময় এবং ধীরে মনের পঙ্গুতাটি ভিতর হইতে বাহিরের দিকে অর্থাৎ মন হইতে দেহে পরিব্যপ্ত হইয়া রোগীকে পক্ষাঘাত গ্রস্ত করিয়া ফেলে এবং এই পক্ষাঘাত লক্ষণটি নিম্নাঙ্গ হইতে উপরের দিকে ধাবিত হয়। ২) কাম সংযত রাখা হেতু বা কাম প্রবৃত্তির অধিক পরিচালনা করিয়া বৃদ্ধ বয়সে শারীরিক ও মানসিক দুৰ্ব্বলতা, তাহা হইতে ক্রমে পক্ষাঘাত, স্মৃতিশক্তির হ্রাস, সমস্ত শরীরের গ্রন্থি সমূহ বেদনা শূন্য শক্তভাব । ৩) গাড়ী, ঘোড়া ও নৌকা চড়িয়া যাওয়ার সময় পাশে তাকাইলে মাথা ঘোরা ও বিবমিষা, শায়িত অবস্থায় পার্শ্ব পরিবর্তনের সময় মাথা ঘুরিযা থাকে। ঘুমাইবার সঙ্গে সঙ্গেই ঘর্ম হওয়া । ৪) লবণাক্ত ও অদ্রব্য এবং উত্তাপে বিশেষ করিয়া সূর্যতাপে ইহার রোগীর বিশেষ স্পৃহা থাকে । মুক্ত বাতাসে, স্পর্শে এবং শব্দে ইহার একটি বিতৃষ্ণা দেখা দেয়। ৫) রাত্রে শুইলে বুক ও গলা কুট কুট করিয়া কাশি। রোগীর পায়ে সামান্য ঠাণ্ডার স্পর্শ সর্দি কাশির আবির্ভাব এবং শয়নের প্রথম দিকেই ঐ কাশি বৃদ্ধি । ৬) প্রস্রাব ত্যাগের সময় ভীষণ কষ্ট, প্রস্রাব একবার হয় আবার বন্ধ হইয়া যায়। ৭) ঋতুস্রাব বন্ধ কিংবা অনেক বিলম্বে ও স্বল্প মাত্রায় হয়।...

কোনায়মের মানসিক লক্ষণ

   ১) রোগী অলস, নির্ব্বোধ, উদাসীন, জড় বিশেষ ও বিষণ্ন। ২) স্মৃতি শক্তি অত্যন্ত দুর্ব্বল ও ক্ষীণ। সেজন্য কোনও বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে না । ৩) রোগী একাকী থাকিতে ভয় পায় অথচ সঙ্গও পছন্দ করে না।  ৪) মনটি বিষাদময়, এত ধীরে ধীরে এই অবস্থা আসিতে থাকে যে রোগীর আত্মীয় স্বজনরা বুঝিতে পারে না সে কোন দিকে চলিতেছে । ৫) সামান্য কারণে অসম্ভষ্ট হয় ও সকল ব্যাপারেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করিতে চায়। 

প্রস্রাবের পীড়ায় আজ্জেন্ট নাইট্রিকাম

  প্রস্রাবের পীড়ায়:-  ছোট ছোট পাথরী নির্গমন হেতু কিডনীতে রক্ত সঞ্চিত হইয়া প্রস্রাব কালে ভংঙ্কর বেদনা ও যন্ত্রণা অনুভূত হইলে ডাঃ প্রেসটনই সর্বপ্রথম ইহা ব্যবহারের পরামর্শ দেন। মূত্র অজ্ঞাতসারে এবং অবাধে নির্গত হয় তবে সরল স্বচ্ছন্দ ভাবে নয়। প্রস্রাব নির্গমন কালে অত্যন্ত জ্বালা, মনে হয় যেন ইউরেথ্রা ফুলিয়াছে। হঠাৎ প্রস্রাবের বেগ আসে। প্রস্রাব ঘন, রক্ত মিশ্রিত অথব ইউরিক এসিড মিশ্রিত। বহুমূত্র বা অন্য কোন প্রস্রাবের পীড়ায় অধিক পরিমাণে প্রস্রাব নির্গত হয়। প্রস্রাব বন্ধ হওয়ার পরেও ২/১ ফোঁটা প্রস্রাব নির্গত হয়। সহজে প্রস্রাবের বেগ বন্ধ করা যায় না। এই পীড়ার প্রধান লক্ষণ হইল এই যে রোগীর মুখমণ্ডল নিমগ্ন, বিবর্ণ ও নীলাভ। তাহাকে অকাল বৃদ্ধের মত দেখায়। মুখখানি যেন শুকাইয়া গিয়াছে। কোমরের একদিক হইতে অন্যদিক পর্যন্ত ও মূত্রথলীর উপর ঘিনঘিনে ব্যথা ।